জনগণের উদ্বেগ

আরজিকর মামলায় আইনজীবীর সরে যাওয়া, সরকারকে প্রশ্নে ফেলছে সমাজের নৈতিক দায়িত্ব ও ন্যায়ক্ষমতার বিশ্বাস।
আরজিকর মামলার নাটকীয় পরিবর্তনে, নির্যাতিতার আইনজীবী সরে যাওয়ার পর রাষ্ট্রের কলঙ্কের কাহিনীর পৃষ্ঠায় আরেকটি অন্ধকার ছায়া পড়ল। রাজনৈতিক মহলে নানান প্রশ্ন উঠছে—কার ইচ্ছায় বন্ধ হলো ন্যায়ের সুতো? জনতার মনের আকাশে ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে বিক্ষোভের মেঘ। সত্যি কি আমরা গণতন্ত্রের এই ট্র্যাজেডিতেই বন্দী?

স্ক্র্যাপইয়ার্ডে বিস্ফোরণে শ্রমিকের মৃত্যু, নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু
শুক্রবার সকালে একটি বাতিল ট্যাঙ্কার কাটার সময় বিস্ফোরণ ঘটে, যা কেবল শ্রমিকের দেহ নয়, আমাদের শাসনের নিষ্ক্রিয়তার প্রতীকও উন্মোচন করে। ৫০ মিটার দূরে গাছের ডালে ঝুলন্ত একটি জীবনের স্মৃতি, আমাদের সমাজের অদৃশ্য সংকটের প্রতিফলন। কাজের নিরাপত্তা নিয়ে বচন শোনানো নেতাদের উচিত ছিল এই বাস্তবতার সাক্ষী হওয়া।

সীমান্তে জমি ও অভিবাসন নিয়ে শুভেন্দুর উদ্বেগ, NIAর হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান
শুভেন্দুবাবুর মন্তব্যে সুস্পষ্ট হলো, নেতৃত্বের ছায়ায় গুমট অস্থিরতা। সীমান্তে জমি নিঃশ্বাস ফেলছে, আর উদ্বাস্তুদের ঢল দেশে অবাধ প্রবেশ। পারদরশিতা কোথায়, যখন গোপন চক্রান্তের অসম্ভব প্রতীক নিয়েই চলছে আজকের গণতন্ত্র? একদিকে ভাঙতেছে আস্থা, অন্যদিকে খয়েরি তারে গাঁথা রাজনৈতিক নাট্যকলা, সমাজ কি সেই অঙ্গনেরই দর্শক?

কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে উত্তেজনা: ভারত সরকারের কাছে নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি, সরকার উদ্বিগ্ন!
সম্প্রতি কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে ধুন্ধুমার কাণ্ড তৈরি হলে সরকারিভাবে উদ্বেগ প্রকাশের চিত্র যেন রাজনীতির নাটক। ভারতে নিরাপত্তা বাড়ে, অথচ সমাজের মধ্যে আতঙ্কের রাজনীতি! এ যেন নেতাদের উদ্যোগ নয়, বরং জনগণের উদ্বেগের প্রতীক। আমাদের চোখের সামনে পরিবর্তনের মাঝে পরিবর্তন—কিন্তু সুরক্ষার নামে যেন চলছে এক অন্তহীন খেল।

কলকাতা পুরসভার বৈঠকে পরিবহণ ও শিল্প দফতরের দায়িত্ববান উপস্থিতি, দূষণের বিরুদ্ধে নতুন উদ্যোগের আশ্বাস!
কলকাতা পুরসভার সাম্প্রতিক বৈঠকে পরিবহণ ও শিল্প দফতরের পদাধিকারীদের ডাকা হলো, যেন বাতাসে ছড়ানো দূষণ ও তার পরিণতি নিয়ে ভাবনা-ভাবনা করা যায়। এই নাটকের পেছনে কি শাসনব্যবস্থার অনিয়মের আঁতুড়ঘর, নাকি জনগণের অসুস্থতায় তাদের নির্লিপ্ততা? সত্যি, জনগণের স্বাস্থ্যের চেয়ে মন্ত্রীর নিরাপত্তা বাড়ানোই কি বেশি জরুরি?

চা-বাগানের এলাকায় হাতির উপস্থিতিতে অবাক স্থানীয়রা, বন দফতরের দায়িত্বহীনতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন!
অরণ্যের রাজনীতির খেলা যেন টিকটিকির মতন; হাতির দলছুট হওয়ার ঘটনায় সরকার আবারও অক্ষমতার ছবি তুলে ধরেছে। দুটি সাইলি চা-বাগানের প্রান্তে জনতার মোড়লরা স্মার্টফোনে বন্দি করেছে হাতির কাণ্ড, অথচ সরকারী কর্মীরা ঠোঁটকাঁপানো আশ্বাস ছাড়া কিছুই দিতে পারছে না। খুবই দুঃখজনক, তবে এ যেন প্রতিবাদের এক নতুন রূপ; জনতা হাতির আনন্দে বুঁদ, আর শাসকগণ বসে দেখছে তাদের নৈশভোজ।

“বাস রেষারেষি আর কমিশনদারীর মাঝে ফিরহাদ হাকিমের নতুন এসওপি: নতুন শাসনের নাটক না কি স্রেফ ফাঁকা আওয়াজ?”
বাংলার রাজনৈতিক জগতে যে বাসের রেষারেষি চলছে, তা যেন রুপকথার বাস্তবতা। পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের মন্তব্য, কমিশন সিস্টেমে দৌড়ানোর বিশ্লেষণ, শাসনের অবক্ষয়ের নিজস্ব প্রতিবিম্ব। এসওপি তৈরির আহ্বান যেন নিছক কথার ফুলঝুরি—সমাজের ভেতর পুঞ্জীভূত অসন্তোষের রেশ মুছে ফেলার এক অন্তহীন প্রচেষ্টা।

“বাঁশবেড়িয়ায় বাতিস্তম্ভের কার্যকারিতা নিয়ে চাল হচ্ছে ঘুরেফিরে, সামনে কার্তিক পূজার প্রস্তুতি, নিরাপত্তা নাকি নাটক?”
বাঁশবেড়িয়ার বাতিস্তম্ভগুলির পরিদর্শন শুরু হয়েছে, যেন মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। তবে ভারী বৃষ্টিতে জমছে জল, আর সেই সঙ্গে কারেন্টের আতঙ্ক। বাঙালির উৎসবের লগ্নে বৈদ্যুতিক বিপর্যয়ের শঙ্কা—শুভবুদ্ধির অভাব কি শুধু দূর্বল নেতৃত্বের ছাপ? 16ই নভেম্বর থেকে কার্তিক পূজা, আর সামনের শোভাযাত্রায় রাজনীতির জটিলতার ছবি ফুটে ওঠার অপেক্ষায়।