সপ্তবর্ণা অষ্টকশিল্পীরা, সাত বছরের অপেক্ষা শেষে, সরকারের নীরবতা ও স্বাধীনতার মৌলিকানুকে উস্কে দিয়ে নিজেদের অস্তিত্বের সংকটে। শিল্পীর কলমের আঁচর এবং কষ্টের সুর যেন শুনতে পাচ্ছে কেবল রাজনৈতিক নেতাদের শুন্য কথাবার্তা, অথচ তাঁদের প্রতিশ্রুতি কবে বাস্তবে রূপ নেবে, সে প্রশ্নে রয়েছে বিকেলের সূর্যের মত ধূসরতা।
অষ্টক শিল্পীদের অনুদানের জন্য সাত বছরের অপেক্ষা
বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের রক্ষক অষ্টকশিল্পীরা আজও সরকারের অনুদানের আবেদন প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবনের জন্য অপেক্ষা করছেন। ২০১৭ সালের মে মাসে এই প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়ার পর, তাদের সৃষ্টিশীলতা যেন ধূসর হয়ে গেছে। সাত বছর পর, তারা এখনো সরকারের ভালোবাসা ও স্বীকৃতির জন্য অপেক্ষমাণ।
শিল্পী ও সরকারের সম্পর্ক: একটি জটিল চিত্র
রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তনের সময় শিল্পীদের আওয়াজ কিভাবে শোনা হচ্ছে? তারা সমাজের আয়না, কিন্তু এই кризিসে তারা এক অদ্ভুত বাস্তবতার সম্মুখীন। প্রতিবছর নতুন প্রতিশ্রুতির বাণী শুনে, তারা দেখতে পান তাদের স্বপ্ন পিছিয়ে যাচ্ছে।
অষ্টকশিল্পীরা কি নিশ্চুপ?
শিল্প ও সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে একটি প্রশ্ন ওঠে: “কীভাবে টিকে থাকবেন এই শিল্পীরা?” যদি সরকার তাদের পেনশনের ব্যবস্থা না করে, তবে এ সৃষ্টিশীল সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ কী? বাজেটের আলোচনা ও সংস্কৃতির বিকাশের অভাবে, এটি এক ধরনের বিদ্রূপ।
সামাজিক প্রেক্ষাপট: প্রতিনিধিত্বের অভাব
মিডিয়া যে ‘নাগরিক সমাজ’ বা ‘শিল্পী সমাজ’ নিয়ে আলোচনা করছে, তা কি সঠিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে? অষ্টক শিল্পীদের নিয়ে এমন আলোচনা চলতে থাকলে, সভ্যতার বর্তমান চেহারা বিবর্ণ হয়ে যাবে। চলচ্চিত্র, নাটক এবং অন্যান্য শিল্পের মধ্যে যে ভাষা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা এখনও অজ্ঞাত। রাজনৈতিক নেতাদের নীরবতা এবং প্রতিশ্রুতির অবক্ষয় এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি
শিল্পীরা আহ্বান জানাচ্ছেন, “আমরা সৃষ্টির জন্য এখানে আছি, আমাদের স্থান না হলে সমাজ সংকটে পড়বে।” তাদের অসাধারণ প্রতিভা রাষ্ট্রের দায়ভার, তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি লুকানো সংকট বিরাজ করছে। সংস্কৃতির বিকাশে অব্যাহত অবমূল্যায়ন ও সরকারের একগুঁয়েমি—এই অবস্থার পরিবর্তনে সামাজিক আন্দোলন ও গণজাগরণের প্রয়োজন।
সুবর্ণ আশার মেঘ কি আসবে?
এখন রাজনৈতিক নেতাদের কার্যকরী পদক্ষেপের অপেক্ষা। যদি সকালে আমাদের জন্য নতুন খবর আসে, তবে তা অষ্টক শিল্পীদের নতুন সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সূচনা করবে। আমাদের সক্রিয় পদক্ষেপে অষ্টক শিল্পীদের ফিরে আসা এবং তাদের সৃজনশীলতা বিকশিত হবে।
সরকার ও জনগণের সহযোগিতা ছাড়া শিল্পের অগ্রযাত্রা সম্ভব নয়। এই সংকটকালীন প্রতিবেদনের মাধ্যমে, শিল্পী ও রাজনীতির সম্পর্কের বাস্তবতা তুলে ধরার প্রয়াস।