রাজ কুন্দ্রার ওপর চলমান পর্নোগ্রাফিক কন্টেন্ট কেসের সূত্রে ইডি-র হানা নিয়ে তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইনস্টাগ্রামে তিনি জানান, চার বছরের তদন্তে তিনি পুরোপুরি সহযোগিতা করছেন এবং মিডিয়ার দ্বারা তাঁর স্ত্রী শিল্পা শেঠিকে অযাচিতভাবে জড়ানোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শিল্পার আইনজীবীও তাঁর নির্দোষতা ব্যাখ্যা করেছেন, নিশ্চিত করেছেন যে মামলার কেন্দ্রে কেবল রাজ কুন্দ্রা রয়েছেন। এ ঘটনা আবারো প্রকাশ্যে আনে বলিউডের জগতে ‘মিডিয়া’ ও ব্যক্তিগত জীবনের সীমানা টানা নিয়ে বিতর্ক।
বলিউডের ঈশ্বরী ও মানবের কাহিনী: রাজ কুন্দ্রার বিতর্কিত আগুনে ঝলক
ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রা তাঁর সম্পত্তিতে এডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট) এর প্রয়োগের পর প্রথমবারের মতো সরকারি ঘোষণা করেছেন। সম্প্রতি, তিনি ইনস্টাগ্রামে এই পরিস্থিতিতে একটি বক্তব্য দিয়েছেন, যেখানে তিনি চার বছরের এই তদন্তের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
রাজ কুন্দ্রা লিখেছেন, “আমি চলমান তদন্তের সঙ্গে সম্পূর্ণ সম্মতি রাখছি যা গত চার বছর ধরে চলমান। ‘সহযোগী’, ‘পর্নোগ্রাফিক’ এবং ‘মানি লন্ডারিং’-এর অভিযোগের বিষয়ে বলার মতো, কোনো হইচই সত্যকে মুছতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত, ন্যায়বিচার আসবে!”
মিডিয়া নিয়ে তার অসন্তোষ
কুন্দ্রা আরও বলেছেন, বিশেষভাবে তাঁর স্ত্রী শিল্পা শেট্টির নাম মিডিয়াতে টানা নিয়ে তিনি বিরক্ত। তিনি জনসাধারণকে অনুরোধ করেছেন যে এই বিতর্কে তাঁর স্ত্রীর নাম টানা উচিত নয়। “অনুগ্রহ করে এই বিষয়ের সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিকভাবে আমার স্ত্রীর নাম বারবার টানবেন না। সীমাগুলোকে সম্মান করুন…!!!”
শিল্পা শেট্টির আইনজীবীর বেনামি ঘোষণা
এই সময়, শিল্পা শেট্টির আইনজীবী প্রশান্ত পাটিল মিডিয়ার দাবি খণ্ডন করেছেন যা তাঁকে কেসের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি জানিয়েছেন যে শিল্পার বিরুদ্ধে কোনও এডি অভিযান নেই এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। “এই রিপোর্টগুলি সত্য নয় এবং বিভ্রান্তিকর। মিসেস শিল্পা শেট্টি কুন্দ্রার বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির অভিযোগ নেই,” পাটিলের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমের দিকে আক্রমণ
প্রশান্ত পাটিল আরও বলেন, মিডিয়াকে অনুরোধ করেছেন যেন তারা শিল্পার নাম এবং ছবির অপব্যবহার করা বন্ধ করে। “অনিয়মিত সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে যেখানে শ্রীমতী শিল্পা শেট্টি কুন্দ্রার ছবি বা ভিডিও এই বিষয়ের সঙ্গে শেয়ার করা হচ্ছে,” বলেছেন তিনি।
মামলার পটভূমি
রাজ কুন্দ্রার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে পর্নোগ্রাফিক সামগ্রী বিতরণের, যা মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে করা হয়েছে। ২০২১ সালের জুলাই মাসে তিনি এই মামলায় গ্রেফতার হন কিন্তু পরে জামিনে মুক্তি পান। এই মামলার তদন্ত এখনও চলমান এবং কুন্দ্রা তাঁর নির্দোষত্ব ধরে রেখে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।
এবং একটি বিষয় স্পষ্ট, এই বিতর্কিত স্থানীয় ঘটনা যেন বলিউডের সংস্কৃতি, সমাজ ও মিডিয়া প্রতিবেদনকে একটা নতুন আঙ্গিকে দেখায়। আসুন, আমরা ব্যঙ্গাত্মক চোখে এই পরিস্থিতি দেখি এবং আমাদের বাস্তবতাকে একটু নাড়া দিই।