আজ ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে দার্জিলিঙের উদ্দেশে টয় ট্রেনের যাত্রা শুরু হল, যেখানে বিদেশি পর্যটকও অন্তর্ভুক্ত। তবে এই উদ্ভাসিত ছবির আড়ালে প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত ঘাটতির বিবর্ণ কাহিনী লুকিয়ে। রাজনীতির নাট্য মঞ্চে সংক্ষিপ্ত সাফল্য ও সমকালীন অসঙ্গতি নিয়ে ভাবনার আহ্বান তুলে এনে, বার্তা দিচ্ছে, সবুজ পতাকা তুলে ধরার সাথে সাথে কি আদৌ পরিবর্তনের বাতাবরণ তৈরি হচ্ছে?
দার্জিলিংমুখী নতুন ট্রেনের যাত্রা: পর্যটন ও রাজনীতি একযোগে
আজ ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি যাত্রা শুরু করেছে দার্জিলিংয়ের দিকে। এই যাত্রীদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান পর্যটকরা ছিলেন, যারা ভারতীয় সংস্কৃতি এবং মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন। কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএম সুরেন্দর কুমারের নেতৃত্বে বিভিন্ন আধিকারিকরা সবুজ পতাকা নাড়িয়ে এই টয় ট্রেনের উদ্বোধন করেন।
ট্রেনের যাত্রা: আনন্দ ও বিষাদের সম্মিলন
হাঁটতে হাঁটতে, স্বপ্নের একটি জগতে প্রবেশ করতে চাই, কিন্তু আমাদের রাজনীতি একসময় যে এতো উন্নতি সাধন করেছিল, আজ সেই দার্জিলিংয়ের রাস্তাগুলোতে প্রকৃতির মাঝে এক অদৃশ্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। সরকারের তরফে পর্যটন উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন এই উদ্যোগকে উৎসাহিত করার জন্য যেসব নেতারা সবুজ পতাকা তুলছেন, তাদের কার্যকরী পদক্ষেপের দিকে নজর দেয়ার সময় এসেছে। কিন্তু প্রকৃতিতে কি রাজনৈতিক সদর্থকতা রয়েছে? নেতারা যখন সন্তুষ্টির সাথে পতাকা নাড়েন, তখন আমাদের দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি কি তাদের ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা প্রদান করতে সক্ষম?
সামাজিক প্রভাব এবং সরকারের দায়িত্ব
যাত্রীদের সংখ্যা সীমিত হলেও, এটি কি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়? আধুনিক ভ্রমণ শিল্পের নতুন মাত্রা কেবল তাদের কাছে আসে, যারা এসব উদ্যোগের মূল্যায়ন এবং যত্ন নিতে সক্ষম। তাই এই সংযোগ রক্ষা করতে, রাষ্ট্রের দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এবং শুধু কাগজে কলমে উন্নয়ন প্রচার না করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
সংস্কৃতি ও রাজনীতি: অস্ট্রেলিয়ার চোখে ভারত
অস্ট্রেলিয়ান পর্যটকরা ট্রেনের জানালায় দাঁড়িয়ে চিন্তা করছিলেন, “বাংলাদেশের আশেপাশে নৌকা ভ্রমণ করবো, না বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দর্শন করবো?” কিন্তু আমাদের দেশের রাজনীতির আগ্রাসনের চিত্রটি দেখা উচিত। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রশংসা বাড়তে থাকলেও, দেশের ভেতর বঞ্চনা ও বিচ্ছিন্নতার চিত্রগুলো ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে।
রাজনীতির অন্তর্নিহিত সংকট
পূর্বাঞ্চল যে সংকটে ভুগছে, সেই সংকট মোকাবেলায় সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হিসেবে রেখে দিতে হবে: আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানানো হচ্ছে কি? এই সবুজ পতাকার দ্বারস্থ হওয়ার পেছনে জনগণের অধিকার কি উপেক্ষিত হচ্ছে? এখানেই একটি সংকটের প্রতীক খুঁজে পাওয়া যায়।
শেষ কথা: নাগরিকের দৃষ্টিভঙ্গি
সবুজ পতাকা দেখলে মনে রাখতে হবে যে সামাজিক দায়িত্ব, প্রাকৃতিক কারণ, রাজনৈতিক অন্তর্দৃষ্টি এবং মানুষের প্রয়োজনীয়তা কখনোই প্রকৃত উন্নয়নের সূচক নয়। যে শিহরিত হৃদয় নিয়ে আমরা এখানে এসেছি, তা বুঝতে হলে আমাদের সরকারের ব্যবস্থাপনাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে।