ঘুম রেলস্টেশন: পর্যটনে গতি, নেতৃত্বে অস্থিরতা ও পাহাড়ের সংস্কৃতির উন্মেষ।

NewZclub

ঘুম রেলস্টেশন: পর্যটনে গতি, নেতৃত্বে অস্থিরতা ও পাহাড়ের সংস্কৃতির উন্মেষ।

ঘুম স্টেশনের চূড়ায় দাঁড়িয়ে, যেখানে ইতিহাস ও পর্যটনের মেলবন্ধন, গভীর ভাবে প্রশ্ন জাগে—আমাদের উন্নয়নের ট্রেন কি সত্যিই সঠিক পঙ্‌ক্তিতে চলছে? দার্জিলিংয়ের হেরিটেজের প্রতি সরকারের মনোযোগ, নিকটবর্তী সাংস্কৃতিক উন্মোচন কি জাতির টয়ট্রেনের মতোই প্রকৃত পরিবর্তন আনতে সক্ষম? সমাজের ভূতিকেন্দ্রের কাহিনী কি আসলেই আমাদের নৃত্য-গানে রূপায়িত হচ্ছে, না পৌরাণিক কল্পনার পৃষ্ঠায় লুকানো?

ঘুম রেলস্টেশন: পর্যটনে গতি, নেতৃত্বে অস্থিরতা ও পাহাড়ের সংস্কৃতির উন্মেষ।

  • হাওড়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার সংকট: নেতা ও প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি, জনগণের অপেক্ষা! – Read more…
  • আলুর দাম বৃদ্ধির পেছনে পাঞ্জাব নির্ভরতাঃ বাংলায় বীজ উৎপাদনে নতুন উদ্যোগ ও রাজনৈতিক আলোচনা – Read more…
  • বিজ্ঞানী ও শিল্পপতিদের সম্মিলনে ২০২৪ জগতের বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন বাতিল, রাজ্য সরকারের প্রকল্প নিয়ে তীব্র আলোচনা। – Read more…
  • বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: এক বছরের অসন্তোষ, সরকারী নীতির বিভেদ ও জনগণের নিরাপত্তা সংকট – Read more…
  • গজলডোবার পুলিশ ফাঁড়ি: সরকারের সিদ্ধান্তে নাগরিক নিরাপত্তা না রাজনৈতিক অঙ্গীকার? – Read more…
  • ঘুম রেলস্টেশন: ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি ও রাজনৈতিক নাটক

    বাংলার পাহাড়ে ৭২০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ঘুম স্টেশন, এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন এবং এখানে পরিবহন ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কাল এবং সংস্কৃতির অমূল্য অধ্যায়। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো যখন দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়েকে হেরিটেজ শিরোপা প্রদান করে, তখন দেশবাসী গর্বিত অনুভব করেছিল। কিন্তু ২০২০ সাল থেকে শুরু হওয়া ঘুম উৎসব বর্তমানে রাজনৈতিক তর্ক ও আর্থসামাজিক পরিবর্তনের পটভূমিতে নতুন অর্থ লাভ করছে।

    পাহাড়ি সংস্কৃতি ও রাজনীতির সংযোগ

    ঘুম উৎসবের সময় পর্যটকরা যখন টয়ট্রেনের ইতিহাস ও পাহাড়ি সংস্কৃতির নাচ-গান উপভোগ করেন, প্রশ্ন ওঠে—এই সংস্কৃতির আসল শুদ্ধতা কি রক্ষা হচ্ছে, নাকি এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলের জন্য একটি হাতিয়ার? জনসাধারণের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। বুদ্ধিজীবীরা প্রশ্ন তুলছেন, কেন এই সংস্কৃতি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার এত প্রভাব ফেলা হচ্ছে? কি এটির ফলে সামাজিক উন্নয়ন হচ্ছে?

    রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফলাফল

    বর্তমানে ঘুমে পর্যটন শিল্পের প্রসারে সরকারের নানা পরিকল্পনা রয়েছে, কিন্তু জনসাধারণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাস্তবায়নের মাত্রা নিয়ে সঙ্কট তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক অদক্ষতা ও সঠিক পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট। কিছু রাজনৈতিক নেতা নিজেদের প্রচারণায় ব্যস্ত থাকলেও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে কম।

    সামাজিক আন্দোলনের বিকাশ

    ঘুম উৎসব আসলে একটি সামাজিক আন্দোলনের প্রতীক। পাহাড়ের যুবসমাজ দেশপ্রেমের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। স্থানীয় সংগঠনগুলো নিজেদের সংস্কৃতিতে গর্বিত, কিন্তু রাজনৈতিক সহযোগিতা ছাড়া এগুলো অনেক সময় নির্ভরশীল থাকে। ফলে তারা রাজনৈতিক টানাপোড়েনে পড়ে, যেখানে সংস্কৃতি ও রাজনীতি একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে।

    জনমানসের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

    মিডিয়া বর্তমানে জনপ্রিয় সমাজের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। এটি নির্মাণ করেছে একটি ধারণা যে, পর্যটন শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয় বরং সংস্কৃতির সত্তাও। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের এই প্রসঙ্গে হাত রয়েছে, তারা সংস্কৃতির সুরে কথা বলেন, আবার কখনো রাজনীতি আর অর্থের তালে। প্রধান প্রশ্ন হল—পাহাড়ের সৌন্দর্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় কি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, নাকি এটি শুধুমাত্র ভোট ব্যাংক বাড়ানোর একটি উপাদান?

    নিষ্কर्ष

    ঘুম স্টেশন বর্ণনা করে একটি বিশাল সাংস্কৃতিক প্রতীক, যা বর্তমানে একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে উঠেছে। সরকারি নীতি এবং সামাজিক পরিবর্তনগুলো কি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উন্নয়নে কার্যকরি ভূমিকা পালন করতে পারবে, নাকি আমাদের কল্পনার দিকে ঠেলে দেবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমাদের সময় নিতে হবে—যেখানে রাজনীতি ও সংস্কৃতির মিলন ফলে ঘুমের পাহাড়ে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

    মন্তব্য করুন