প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সির নতুন মূর্তি রেলগেট থেকে পূর্ণিয়া মোড়ের মাঝখানে, এক নতুন সেলফি জোনের উদ্ভব ঘটাতে চলেছে। মানুষের জন্য বসার ব্যবস্থা থাকলেও, রাজনীতির ক্ষণে সৈন্যশাহী দর্শকরাই কেবল বিনোদনের তরে আবারও যেন অতিথি, ভুলে যাচ্ছেন নীতির মৌলিকতা। রাজনীতি বাদ দিয়ে, সেলফি গুছানোর এই সংস্কৃতিতে, জনতার হৃদয়ে তৃণমূলের প্রতিফলনই কি শুধুই সুরের সঙ্গ?
প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সির মূর্তি: সেলফি ও একটি নতুন সমাজচিন্তার সূত্রপাত
গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাঝে, রেলগেট থেকে পূর্ণিয়া মোড়গামী জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়কে প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সির নতুন মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। মূর্তির পাশে সাধারণ মানুষের বসার পরিসর এবং সেলফি জোন তৈরি করে গত কয়েকদিন ধরে শহরের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় নতুন আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই মূর্তি আমাদের মনে করে দেয়—রাজনীতি কি শুধুমাত্র স্মৃতির মধ্যে বন্দি? নাকি এর প্রভাব বাস্তব জীবনে আরও গভীর?
শক্তির রেখা: কাউন্সিলরের উদ্যোগ
২০১৯ সালে রায়গঞ্জ পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর অসীম অধিকারীর উদ্যোগে এই মূর্তি স্থাপনের খবরটি সারাদেশে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সির মূর্তি স্থাপন যেন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটি কি শুধু স্মৃতিশ্রেষ্ঠা, নাকি আমাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির নতুন পরিচয়?
মিডিয়ায় সেলফি এবং প্রেমের নতুন গল্প
রাজনীতির এই দৃশ্য আজকের মিডিয়ার একটি নতুন দৃষ্টিপাত। সেলফি জোনে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ কি প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সির গুণগান করবেন, নাকি তারা নতুন রাজনৈতিক গরিমার সন্ধানে মগ্ন হয়ে থাকবেন? এই পরিস্থিতি আমাদের সামনে প্রশ্ন রাখে—আমরা কি সত্যিই অগ্রগামী?
প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ: সমাজের প্রতিক্রিয়া
যদিও মূর্তি স্থাপন নিয়ে সেলফির প্রচারণা চলছে, তবে সামাজিক মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে নানা মতামতও উত্থিত হচ্ছে। অনেকে বলছেন, প্রতীকী অভিনয়ের পরিবর্তে আমাদের সামাজিক কাঠামোয় বাস্তব পরিবর্তন প্রয়োজন। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী সত্যিই সেই পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে, নাকি এটি কেবল একটি সাজসজ্জা?
রাজনীতির সারাংশ: পরিবর্তনের প্রয়োজন
বর্তমান সময়ে, যখন প্রতিশ্রুতি এবং প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি হচ্ছে, তখন প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সির মূর্তির প্রতি মানুষের প্রতিক্রিয়া আমাদের শিখিয়েছে—‘সেলফি’ নেওয়া রাজনীতির সারাংশকে ব্যালেন্স করে না। আমাদের সমাজের আধুনিকীকরণের চাহিদা প্রচুর, যেখানে মূর্তি নয়, বরং নেতৃত্বের আদর্শ বোঝা উচিত। ভবিষ্যতে হয়তো মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে সত্যিকার অনুসন্ধান করতে পারব।