তমলুক শহরের ৩৫০ মহিলার চোখে জল, লক্ষ্মী ভাণ্ডারের টাকা যেন এক অভিশপ্ত রূপকথা। ১৬ হাজারের মধ্য থেকে এদের তথাকথিত পূর্ণিমার চাঁদ দেখছেন বলতে গেলে কালি গায়ে। সরকারের লহরিতে আশার ফুল ফুটে ওঠার কথা, অথচ বাস্তবে চলছে দুর্ভিক্ষের যুগ—নেতাদের গালগল্প শুনতে শুনতে, সবার মুখোমুখি দেখতে যেন শাসনের প্রতি বিশ্বাসের বাতি নিভে যাচ্ছে।
তমলুকের লক্ষ্মী ভাণ্ডার প্রকল্পে বিপত্তি: নারীরা যে সুর গাইছেন
গত ছয় মাস ধরে তমলুক শহরের ৩৫০ জন মহিলা সামাজিক আর্থিক সংকটের বিরুদ্ধে প্রতিদিন নতুন একটি সুর গাইছেন। লক্ষ্মী ভাণ্ডারের অর্থ না পাওয়ার কারণে তারা গোটা সমাজে এক অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছেন। এই নারীরা, যারা আগে নিজেদের দাবি নিয়ে চুপ ছিলেন, আজ তাদের কণ্ঠস্বর রাজনীতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন।
লক্ষ্মী ভাণ্ডারের সমস্যা: একটি গভীর সংশয়
শহরের ১৬ হাজার মহিলার মধ্যে কি নির্বাচন প্রক্রিয়া এমনভাবে হয়েছে যে ৩৫০ জন পিছিয়ে পড়েছেন? এই অসঙ্গতি আমাদের সমাজে সুশাসনের অভাবকে তুলে ধরে। প্রশ্ন উঠছে, সংবিধানের নির্দেশ অনুশীলনে কি সরকারের কোনো অবহেলা রয়েছে? অনেকে বলছেন, এটি একটি নাটক—নির্বাচনের আগে নারীর উন্নয়নের কথা বলা হলেও, রাজনৈতিক নেতাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য তাদের নিজস্ব স্বার্থ পূরণ।
অর্থের অভাব এবং সামাজিক প্রভাব
৩৫০ মহিলা লক্ষ্মী ভাণ্ডার থেকে অর্থ না পাওয়ার ফলে যে সামাজিক প্রভাব বিদ্যমান, তা দুর্ভেদ্য। তাদের দিনযাপন এবং শিক্ষার খরচে কষ্ট হচ্ছে, ফলে তারা ক্রমে প্রান্তিক হয়ে পড়ছেন। টাকা না পাওয়ায় তারা কি নতুন আন্দোলনে লিপ্ত হবেন? তাদের মনে প্রশ্ন, “এই অনুদান আমাদের জীবনে কি আলোর দিশা দেখাবে?”
সুশাসনের সংকট: এক ভিন্ন প্রেক্ষাপট
প্রশ্ন উঠছে, সরকার কি একটি সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে? প্রত্নতত্ত্ব যদি নারীর ক্ষমতায়নের নতুন পর্যায় বলে উল্লেখ করে, তো নিঃসঙ্গতায় জন্ম নেওয়া ক্ষোভের কথা কি বলেনি? তমলুকের ৩৫০ নারী আজ সমাজের দৃশ্যে বাস্তব চরিত্র হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, এবং তাদের প্রয়োজনই তাদের সচেতন করে তুলছে।
গণমাধ্যমের ভূমিকা: সত্যের সন্ধানে
গণমাধ্যম এই সংকট সম্পর্কে কি করছে? কি ঘটছে তাদের সামনে বিভিন্ন প্রকল্পের আভিজাত্যের মধ্যে? তারা কি শুধুমাত্র সেলফি তোলার এবং ক্যামেরায় ‘বোঝাপড়া’ করতে ব্যস্ত? কেন তারা প্রতিশ্রুতির আড়ালের সত্য উঠে ধরছে না? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরে কি সময়ের সত্যটি উদঘাটিত হবে? যখন “বজ্র” প্রথাগুলি ভেঙে পড়বে, তখন আসল ছবি কি নির্মম হয়ে উঠবে?
সামাজিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা?
তবে কি আশা হারিয়ে যাচ্ছে? সংকট সদা নতুন পথের জন্ম দেয়। তমলুকের নারী সংঘর্ষের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান ও সম্ভাবনা পুনর্বহাল করতে সক্ষম হতে পারেন। বাস্তবতার মঞ্চে তাদের আসন কি হবে, সেটি নির্ভর করছে আগামী দিনের উপর।
অবশেষে, তমলুকের ৩৫০ মহিলা আজকের গল্পের নায়ক হলেও, তাদের আন্দোলন সারা বাংলার নারীদের জন্য নতুন প্রেরণা। “লক্ষ্মী ভাণ্ডার” প্রকল্পের সত্যতা ও ক্ষমতার পরিবর্তন সময়ের দাবি। এখন সময় এসেছে তাদের বঞ্চনার কষ্টের গান গাওয়ার। আসুন, ভাবি, বাস্তবতা কি সত্যিই পরিবর্তনযোগ্য?